Wednesday, May 25, 2016

এক দশকের মোহন সম্পর্ক শেষ শিল্টনের । অর্ঘ্য বন্দ্যোপাধ্যায় - এইসময়

দশ বছরের দীর্ঘ সম্পর্ক৷ হাসি-কান্না, আনন্দ-দুঃখ৷ অভিমান৷ শিল্টন পাল এবং মোহনবাগান৷ এক দশকের এই সম্পর্ক শেষ হতে চলেছে এ বার৷ বিরাট কিছু পরিবর্তন বা অঘটন না ঘটলে, নতুন মরসুমে আর সবুজ-মেরুন জার্সি গায়ে খেলতে দেখা যাবে না বাগান গোলকিপারকে৷


শিল্টন পাল মোহনবাগানে শুধু গোলকিপার নন, শেষ দু'বারের অধিনায়কও৷ তাঁর হাত ধরেই ১৪ বছর পর ফের আই লিগ এসেছে গঙ্গাপারের তাঁবুতে৷ গত বার বেঙ্গালুরুর সঙ্গে আই লিগ জয়ের শেষ ম্যাচেও দুর্গ রক্ষার দায়িত্বে ছিলেন শিল্টন৷ এ বারও সম্মান দেখিয়ে তাঁকেই অধিনায়ক রেখে দেওয়া হয়৷ কিন্ত্ত তারপরেই ছন্দপতন৷ কলকাতা লিগের কিছু ম্যাচ এবং গোটা আই লিগ ও এএফসি কাপে মাত্র একটি করে ম্যাচ খেলেছেন শিল্টন৷ আনফিট ছিলেন, চোট ছিল৷ তা নয়৷ তারপরেও কেনও বেশি সুযোগ পেলেন না, উত্তর খঁুজছেন বাগান গোলকিপারও৷

শিল্টনের সঙ্গে এখনও পর্যন্ত নতুন মরসুম নিয়ে কথা বলেননি বাগানের কোনও কর্তা৷ শিল্টন মুখে বলছেন, 'এখন খেলা চলছে, তাই কারও সঙ্গে কথা হয়নি৷' কিন্ত্ত ঘটনা হল, টিম গঠনের কাজ কিন্ত্ত ভিতরে-ভিতরে অনেকটাই হয়ে গিয়েছে৷ বাগান কর্তাদের ভাবনায় কিন্ত্ত শিল্টন পাল এ বার নেই৷ সবচেয়ে বড় কথা, ফেডারেশন কাপের ফাইনাল এবং এএফসির ম্যাচে নিয়ে যাওয়া হয়নি বাগান অধিনায়ককে৷ দেবজিত মজুমদারের সঙ্গে রয়েছেন অর্ণব দাসশর্মা৷ শিল্টনকে কার্যত বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, তোমার দিন শেষ!

শিল্টন নিজেও বেশ আশাহত৷ মঙ্গলবার রাতে বললেন, 'ফেড কাপ ফাইনালে টিমে থাকব ভেবেছিলাম৷ খেলি না খেলি, টিমের সঙ্গে থাকতে পারলে ভালো লাগত৷ আর গুয়াহাটিতে এএফসির গুরুত্বহীন ম্যাচটাতেও টিমে রাখা হল না৷ জানি না কেন?'

দশ বছরে প্রচুর সাফল্য৷ দেশের এমন কোনও বড় ট্রফি নেই, বাগানের হয়ে যেটা শিল্টন পাননি৷ সেরা বাছতে বসে ভেবে পান না কোনটা ছেড়ে কোনটা বলবেন৷ কিছুটা ভেবে বললেন, 'গতবারের আই লিগ জয়টাই সেরা বলব৷ আমার অধিনায়কত্বে এত বছর পর ট্রফি৷ আমি খেলেছি৷ এটাই সেরা৷' জুড়ে দিলেন, 'আমার কোনও আক্ষেপ নেই৷ এই দশ বছরে অন্য ক্লাবের অনেক অফার পেয়েছিলাম৷ ছেড়ে যাইনি৷ কারণ, বাগান সমর্থকদের ভালোবাসা অন্য কোথাও পেতাম না৷'

সেই ২০০৬ সালে সরাসরি টিএফএ থেকে বাগানে সই করেছিলেন শিল্টন৷ আস্তে-আস্তে জায়গা করেছিলেন নিজের৷ দশ বছরের সেই সম্পর্ক ছেড়ে বেরিয়ে এসে এ বার কী হবে শিল্টনের ভবিষ্যত্? আপাতত আইএসএলে আতলেতিকো কলকাতার হয়ে খেলবেন৷ সেখানেও অবশ্য দেবজিত্ মজুমদার রয়েছেন৷ তারপর শিল্টন অন্য ক্লাবের অফার পেলে ফের নতুন জার্সিতে দেখা যেতে পারে৷

ময়দানের খবর, ইস্টবেঙ্গল ইতিমধ্যেই প্রাথমিক ভাবে বাজিয়ে দেখেছে শিল্টনকে৷ সমস্যা হল, ইস্টবেঙ্গল কোচ ট্রেভর মর্গ্যানের তালিকায় বাগান গোলকিপার দেবজিত্ মজুমদার রয়েছেন৷ দেবজিত্ যদি এ বার লাল-হলুদ জার্সি গায়ে চাপান, সেক্ষেত্রে ইস্টবেঙ্গল আর আগ্রহী হবে না৷ সেক্ষেত্রে হয়তো শেষ মুহূর্তে শিল্টনের সঙ্গে ফের কথা বলতেও পারেন বাগান কর্তারা৷ কিন্ত্ত সেই সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ৷

আপাতত বারাসতে নিজের ছোটবেলার কোচ মনোতোষ রায়ের কাছে নিজেকে প্র্যাক্টিসে ডুবিয়ে রেখেছেন শিল্টন৷ ইংল্যান্ডের তারকা গোলকিপার পিটার শিল্টনের নামে ছেলের নাম রেখেছিলেন শিল্টন পালের বাবা৷ ইংল্যান্ডের শিল্টন অনেক বয়স পর্যন্ত খেলে গিয়েছেন৷ বাংলার শিল্টনের প্রেরণাও সেটাই৷

কথায় তো আছেই, একটা দরজা বন্ধ হলে দশটা দরজা খুলে যায়! সেই দরজাই খঁুজছেন বাগান অধিনায়ক!

No comments:

Post a Comment